Home চট্টগ্রাম শিশুদের শীতের পোশাকের কদর বেড়েছে ফুটপাতে

শিশুদের শীতের পোশাকের কদর বেড়েছে ফুটপাতে

ক্রমে বাড়ছে শীতের প্রকোপ। বাড়ছে বৈশ্বিক মহামারী করোনার দাপটও।শিশু-কিশোররা ভুগছে সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত রোগে। তাই কদর বাড়ছে ফুটপাতের শীতের পোশাকের। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমজমাট বিকিকিনি হচ্ছে ভাসমান দোকানগুলোতে।

সরেজমিন নগরের নিউ মার্কেট, জুবিলি রোড, স্টেশন রোড, কেসি দে রোড, কোতোয়ালীর মোড়, লালদীঘি, কাজীর দেউড়ি মোড়, আন্দরকিল্লা, চকবাজার, বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, বন্দরটিলাসহ নগরজুড়ে লোকসমাগম হয় এমন এলাকাগুলোতে ভাসমান দোকানিরা শীতের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। কেউ কেউ রিকশাভ্যানে কমদামি শীতের পোশাক, আমদানি করা পুরনো শীতের পোশাক ফেরি করছেন অলিগলিতে। 

বেশি বিক্রি হচ্ছে সোয়েটার, জ্যাকেট, গরম কাপড়ের গেঞ্জি সেট, ব্লেজার, মাথার টুপি, কানটুপি, মাফলার, হাত ও পায়ের মোজা, ছোটদের কম্বল, লেপ-কাঁথা, গলাবন্ধনী, শাল ইত্যাদি।

একজন বিক্রেতা বাংলানিউজকে বলেন, দুই ধরনের ভাসমান শীতপোশাক বিক্রেতা আছেন। এক গ্রুপ খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন আমদানিকারকের কাছ থেকে পুরনো শীতপোশাকের গাইট কিনে এনে বিক্রি করছেন। মূলত ছোটদের জামা, কাঁথা-কম্বল, ব্লেজারই আসে গাইটে। আরেক গ্রুপ ঘাটফরহাদবেগ, টেরিবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে কমদামি নতুন শীতপোশাক পাইকারি কিনে এনে বিক্রি করছেন। মূলত বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্তই বেচাকেনা হচ্ছে।  

জুবিলি রোডের হকার্স মার্কেট গলির মুখে কথা হয় শীতের পোশাক কিনতে আসা গৃহিণী শামসুন নাহারের সঙ্গে। তিনি বলেন, নাতি নাতনিদের জন্য শীতের পোশাক নিতে এসেছি। দেখে শুনে দরদাম করে বেশ কয়েক পদের কালারফুল জামা কিনলাম।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ফুটপাত হকার সমিতির সহ-সভাপতি ফরিদ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের সমিতিতে সাড়ে সাতশ’ সদস্য আছেন। সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে করোনা প্রতিরোধে মাস্ক পরতে এবং মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতা আসলে পণ্যসামগ্রী বিক্রি না করতে। আমরা ৫-৭ জনের দল করে মাস্ক পরার বিষয়টি মনিটরিং করছি। যারা মানছে না তাদের ৩ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা আমরা সমিতির পক্ষ থেকেও প্রচুর মাস্ক বিতরণ করছি। মাস্কের বিষয়টিকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সেই মার্চ থেকে করোনার জন্য মাসের পর মাস ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ ছিল। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ কত উৎসব চলে গেল। সবার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এই শীত মৌসুমেই ফুটপাতে কিছু বেচাকেনা হচ্ছে।

শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সুশান্ত বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, ফুটপাত থেকে বড়দের বা ছোটদের যেকোনো পোশাক কেনার পর সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে পরাতে হবে। কারণ কেনার পর সরাসরি এসব জামাকাপড় পরলে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ, এলার্জি, ফুসফুসের রোগব্যাধির শঙ্কা থাকে। সবচেয়ে বড় কথা, অনেক ক্রেতা এসব কাপড় হাত দিয়ে ধরেন, তাই ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে মা-বাবাসহ অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

শীতে যেসব ভুলে মুখ কালচে দেখায়

শীতে প্রকৃতি যেমন থাকে উস্কখুস্ক, তেমনি ত্বকেরও একই অবস্থা। শীতে ত্বকের চাই বাড়তি যত্ন। অনেকসময় শীত আসলে আমাদের মুখের রঙ কালচে দেখায়। এসব থেকে...

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২১৯৮ জন

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয় হাজার ৮৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ...

একবার অর্ডার করা খাবার ৪২ বার পাঠাল ফুডপান্ডা!

অনলাইন অ্যাপের নতুন এক সমস্যা দেখল ফিলিপাইনবাসী। একবার খাবার অর্ডার করে ৪২ বার খাবারের প্যাকেট পেয়েছেন এক ব্যক্তি। ঘটনা ফিলিপাইনের সেবু শহরে।  মূলত প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এমনটা...

ই-কমার্স নীতিমালা: সাত দিনে পণ্য ডেলিভারি না দিলে জরিমানা

ঢাকা: অর্ডার সম্পন্ন হওয়ার পরে এলাকা ভেদে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি না দিলে জরিমানা গুনতে হবে ই- কমার্স কোম্পানিকে এটি করতে ব্যর্থ হলে...

Recent Comments